মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প:-

 

সহজ-সরল প্রক্রিয়ায় গ্রামীণ-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যমুক্তকরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আগ্রহে ২০০৯ সালের জুলাইয়ে ‘একটি বাড়িএকটি খামার’প্রকল্পের যাত্রা শুরু।
‘একটি বাড়ি একটি খামার’প্রকল্পকে দুই পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০০৯ সালের জুলাই হতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়কাল হচ্ছে ২০১৩ হতে ২০১৬ সালের জুন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের উদ্যোগী ভূমিকায় রয়েছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হচ্ছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ। আর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে সহযোগীর দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসক। এছাড়া সহযোগী সংস্থা হিসেবে রয়েছে সমবায় অধিদপ্তর, কুমিল্লা ও বগুড়ার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং জাতি গঠন বিভাগ।
সারা দেশের ৮৫ হাজার গ্রামের ৫১ লাখ দরিদ্র/অতিদরিদ্র প্রতি গ্রামের ৬০টি পরিবারসহ সমিতিভুক্ত সকল পরিবারকে গ্রাম সংগঠনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই ‘একটি বাড়ি একটি খামার’প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। প্রকল্পের অন্যান্য লক্ষ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে ২০১২ সালেরমধ্যে প্রতি গ্রাম থেকে ৫ জন করে মোট ৪ লাখ ২৫ হাজার সদস্যকে জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে খামার স্বেচ্ছাসেবী গঠন করা, প্রশিক্ষিত কর্মীদের বাড়িতে মোট ৪ লাখ ২৫ হাজার প্রদর্শনী খামার গড়ে তোলা। ২০১৩ সালের মধ্যে অনিবাসী ভূমি মালিকদের ভূমিসহ গ্রামীণ সকল সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ও সম্পত্তির মালিকানা নিশ্চিত করা। ২০১৩ সালের মধ্যে অতিদরিদ্র/দরিদ্র সদস্যদের মাসিক সঞ্চয়ের বিপরীতে প্রকল্প থেকে সমপরিমাণ অর্থ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমেপ্রতিটি পরিবারের বার্ষিক সঞ্চয় ন্যূনতম ৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা। প্রধানকৃষি ফসলের পাশাপাশি আদা, হলুদ, পিঁয়াজ, রসুন, জিরা, মসলা, বিভিন্ন ফল এবংঅন্যান্য অপ্রধান কৃষি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিকরতঃ উপজেলা পর্যায়ে একটি করেসমিতি ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়েতোলা।
‘একটি বাড়ি একটি খামার’প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি পরিবারকেআর্থ-মানবসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই আর্থিক কার্যক্রম হিসেবে গড়ে তোলা। যাতে করে ২০১৫ সালের মধ্যে জাতীয় দারিদ্র্য ২০ ভাগে নামিয়ে আনা যায়। প্রথম পর্যায়ে প্রতি উপজেলার ৩৬টি হিসেবে মোট ১৭ হাজার৩৮৮টি গ্রামের দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্তকরা। এছাড়া পর্যায়ক্রমে দেশের সব অর্থাৎ ৮৫ হাজার গ্রামের ৫১ লাখ দরিদ্র ওঅতিদরিদ্র পরিবারকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলা। ২০১৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের অধীন সব গ্রামের প্রতিটি পরিবারকে কৃষি, মৎস্যচাষ, পশুপালন ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে একটি কার্যকর খামার বাড়ি রূপে গড়ে তোলা।
দরিদ্র মানুষের সঞ্চয়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গঠিত পুঁজিতে তাদের অংশীদারিত্ব ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের সাপ্তাহিক/মাসিক সঞ্চয়ের বিপরীতে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’প্রকল্প হতে সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। অর্থাৎ রহিম বা রহিমা সপ্তাহে ৫০ টাকা বা মাসে ২শ’টাকা জমা দিলে বছরে তার জমা হবে ২৪০০ টাকা এবং সরকার বছরে তিন কিস্তিতে তার একাউন্টে জমা দিবে ২৪০০ টাকা। ফলে রহিমার বছরে পুঁজি গঠিত হবে ৪ হাজার ৮শ’টাকা এবং প্রকল্পকালীন ২ বছরে তার পুঁজি হবে ৯ হাজার ৬শ’টাকা, যা ব্যাংক সুদসহ দাঁড়াবে ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে প্রতি গ্রামে গঠিত ৬০ সদস্যের সমিতিতে প্রকল্প থেকে বছরে তিন কিস্তিতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। অর্থাৎ সমিতিভুক্ত ৬০টি দরিদ্র পরিবারের বার্ষিক মূলধন দাঁড়াবে (৬০ জন ী৫,০০০ = ৩,০০,০০০ + সমিতিতে দেয় ১,৫০,০০০) ৪,৫০,০০০ টাকা, দুই বছরে এ মূলধনহবে ৯,০০,০০০ টাকা। ওইসব অর্থ সম্পূর্ণ সুদহীন, যা সমিতির ঘূর্ণায়মান তহবিল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সমিতি সাপ্তাহিক উঠান বৈঠকে মিলিত হয়ে কোন সদস্য কি কাজ করতে চায় তাকে সে কাজ করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করবে। সদস্য সমিতি কর্তৃক নির্ধারিত কিস্তিতে ন্যূনতম সেবামূল্যসহ আদায়কৃত অর্থ সমিতির হিসাবে জমা করবে। উঠান বৈঠকে তারা গ্রামের আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষাসহ সার্বিকবিষয়ে আলোচনা করে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
২০১৩ সালের জুলাই হতে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শেষে বিআরডিবির অধীনে অথবা একটি স্বতন্ত্র পল্লী উন্নয়নকর্মসূচি ফাউন্ডেশন হিসেবে বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।
প্রকল্পের আওতাধীন জনগোষ্ঠীকে একটি অর্থনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে দেশের মূলধারার অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটা সম্ভব হলে দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি দেশের ব্যাস্টিক অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ জন্যই প্রকল্পটি অন্য যে কোনো সময়ে নেয়া কর্মসূচির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।

 

 

বোয়ালথালী উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতি ইউনিয়নে পাঁচটি গ্রাম করে মোট ৩৬ টি গ্রামের (প্রতি গ্রামে ৬০ পরিবার করে) মোট ২১৬০ পরিবার এই পকল্পের আওতাভূক্ত করা হয়েছে। ২০১০- ২০১১ অর্থ বছরে অত্র উপজেলায় সম্পদ হস্তান্তরের জন্য মোট ২৮,০০,০০০ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। প্রকল্পের সম্পদ হস্তান্তরের আওতায় সুফলভোগীদের মধ্যে ১০০ জন বকনা গাভী, ৪৪ জন ঢেউ টিন, ৩০ জন হাঁস-মুরগীর বাচ্চা, ৯০ জন গাছের চারা, এবং ১২০ জনের মধ্যে শাক সবজির বীজ বিতরন সম্পন্ন করা হয়েছে।
২০১১-২০১২ অর্থ বছরে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
পি আর ডি পি- ২
প্রকল্পটি ২০১০- ২০১১ অর্থ বছরে উপজেলার চারটি  ইউনিয়নে ( পশ্চিম গোমদন্ডী, সারোয়াতলী, পোপাদিয়া, কধৃরথীল  ) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে আরো একটি  ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় একজন উপজেলা প্রকল্প সম্বনয়কারী , একজন মাঠ সংগঠক, এবং কাম- কম্পিউটার টাইপিস্ট বর্তমানে নিয়োজিত রযেছেন। একটি বাড়ি একটি থামার এর বিভিন্ন প্রকল্প সুবিধা জানতে আপনি একটি  বাড়ি থামার প্রকল্পের উপজেলা সম্বনয় কারী মো: কামাল উদ্দিন সাখে যোগাযোগ করতে পারেন।

 

 যোগাযোগের ঠিকানা: মো; কামাল উদ্দিন

       উপজেলা প্রকল্প সম্বনয়কারী

       মোবাইল: 01818-669133