মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

জমিতে সার প্রয়োগ

 কৃষি জমিতে সার প্রয়োগের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিন্মে তুলে ধরা হল:

 

 জমিতে আগাছা নিধনের চিত্র

মানুষ যে পরিবেশে থাকে সে পরিবেশকে  তার বসবাস উপযোগী করে নেয়। মধুপুর গড়াঞ্চলে গারো আদিবাসীরা বংশানুক্রমিকভাবে বয়ে আনা জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে বনের ভেতর নানা প্রতিকূল অবস্থায় বেঁচে থাকার ও জীবিকা নির্বাহের উপায় খুঁজে বের করেছে। বিশেষ করে চাষাবাদের ক্ষেত্রে তাদের লোকায়ত জ্ঞানের প্রয়োগ খুবই ফলপ্রসূ হতে পারে। তাদের লোকায়ত জ্ঞান ব্যবহার করে ফসলকে লাল পিঁপড়ার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

 

 

প্রয়োজনীয় উপকরণ 

পানি, কাপড় কাঁচার সাবান,কেরোসিন ইত্যাদি।

 

ফসলকে লাল পিঁপড়ার হাত থেকে রক্ষার কৌশল 

নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে ফসলকে লাল পিঁপড়ার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব:

১ম ধাপ: 

প্রথমে এক লিটার পানির মধ্যে কাপড় কাচার সাবান গোলাতে হবে।

 

pipra theke fosol roxa1.jpgpipra theke fosol roxa2.jpgpipra theke fosol roxa3.jpg
 

ছবি: সাবান গোলা পানি 

 

 

ছবি: সাবান পানিতে কেরোসিন মেশানো

 

 

ছবি: পিপঁড়ার গর্তে মিশ্রণ ঢালা

 

 

 

২য় ধাপ: 

এরপর মিশ্রণটির মধ্যে ৩ থেকে ৪ ফোঁটা কেরোসিন গুলে পিঁপড়ার গর্তে দিতে হবে।

 

উপকারিতা 

  • এ পদ্ধতিটি অনুসরণ করলে গর্তের পিঁপড়া মরে যাবে এবং ফসলের কোন ক্ষতি হবে না।
  • এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে পরিবেশের উপর কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না।

 

***

স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করে জৈব কীটনাশক তৈরি

 

স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করে জৈব কীটনাশক তৈরি

 



 

রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা নষ্ট হতে থাকে এবং খরচও অনেক বেড়ে যায়। জৈব উপাদান ব্যবহার করে কীটনাশক তৈরি করে এই অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব।

 

 

উপাদান

 

joibo kitnashok1.jpgjoibo kitnashok2.jpgjoibo kitnashok3.jpgjoibo kitnashok4.jpgjoibo kitnashok8.jpg

ছবি: মেহগনির বীজ 

ছবি তোলার স্থান: কৈতরা, মানিকগঞ্জ। 

ছবি: পাত্রে ঢাকা গরুর মূত্র

 

ছবি: বিষকাটালী গাছ 

 

ছবি: আতা গাছের পাতা

 

ছবি: রিফুজিলতা (স্বর্ণলতা) 

 

 

 

বড় পাত্র, গরুর মূত্র, বিষকাটালীর রস, মেহগনির বীজ, রিফুজিলতা, আতাফল পাতা ও আতাফলের বীজ।

 

পদ্ধতি  

স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করে জৈব কীটনাশক তৈরির জন্য নিচের কৌশলগুলো অনুসরণ করতে হবে-

 

১ম ধাপ : 

একটি বড় পাত্র জোগাড় করতে হবে এবং এই পাত্রে গরুর মূত্র জমা করতে হবে।

২য় ধাপ : 

গরুর মূত্রসহ পাত্রটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে কমপক্ষে ২ মাস রাখতে হবে।

৩য় ধাপ : 

এই ২ মাসে গরুর মূত্র পচে বাসী হয়ে যাবে এই মূত্রের সাথে বিষকাটালীর রস, মেহগনির বীজ, রিফুজি লতা এবং আতাফল পাতা ও বীজ মেশাতে হবে।

 

joibo kitnashok5.jpgjoibo kitnashok6.jpgjoibo kitnashok7.jpg

 

  

 

ছবি: বিষকাটালীর রস তৈরি

  

 

ছবি: হাঁড়িতে উপকরণ মেশানো

 

 

ছবি: জৈব কীটনাশক তৈরি

 

 

মিশ্রণ তৈরি প্রক্রিয়া  

  1. ১ লিটার গরুর মূত্রের সাথে পানি দিতে হবে ৫ লিটার।
  2. অন্য পাত্রে ২ লিটার পানির সাথে আধা কেজি বিষকাটালী গাছের রস, ১টি মেহগনীর বীজ জ্বাল দিয়ে ১ লিটার তরল তৈরি করতে হবে।
  3. এক পোয়া রিফুজি লতার সাথে ১ কেজি আতাফল পাতা এবং ৩ কেজি পানি দিয়ে জ্বাল দিতে হবে।

 

এর পর প্রতিটি দ্রবণ ১ কেজি করে নিয়ে জমিতে স্প্রে করা যায়। গ্রামে অনেকে সুপারি পাতা বা শুকনো নারিকেল পাতা দ্রবণে চুবিয়ে আক্রান্ত ক্ষেতে ধান গাছের উপর দিয়ে টেনে টেনে নিয়ে যায়। এভাবে টেনে টেনে নেওয়ার ফলে পাতা থেকে দ্রবণ সহজে গাছের উপরিভাগ সহ সব জায়গায় ছড়িয়ে যেতে পারে।

 

উপকারিতা  

  1. মাত্র ২০ টাকায় ৬ শতক জমিতে স্প্রে করা যায়।
  2. এর ফলে শরীরেও কোন জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে না।

 

 

***

মেল গাছ: কৃষকের উদ্ভাবিত পরিবেশবান্ধব কীটনাশক

মেল গাছ: কৃষকের উদ্ভাবিত পরিবেশবান্ধব কীটনাশক 

খুব অল্প খরচে মেল গাছ দিয়ে ফসলের কীটপতঙ্গ দূর করা সম্ভব। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয় না। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকেরা এ পদ্ধতিতে ফসলের কীটপতঙ্গ দূর করে থাকেন ।  

 

  • Ø উপাদান 
  • Ø কীটনাশক তৈরীর ধাপ 
  • Ø উপকারিতা
  • Ø তথ্যসূত্র
  • Ø সচরাচর জিজ্ঞাসা

 

উপাদান

  • পাহাড়ে জন্মানো মেল গাছ।
  • নিম পাতা
  • তুত পাতা
  • মাটির পাত্র
  • পলিথিন
  • পানি

 

কীটনাশক তৈরীর ধাপ

মেল গাছ দিয়ে কীটনাশক তৈরীর জন্য নিচের কৌশলগুলো অনুসরণ করতে হবে:

১ম ধাপ

২ কেজি মেল গাছের পাতা ও কান্ডের সাথে ২০০ গ্রাম নিম ও তুত পাতা কুচি করতে হবে।

২য় ধাপ

কুচি করে রাখা পাতাগুলো একটি মাটির পাত্রে রেখে পাত্রটির মুখ পলিথিন দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে।

৩য় ধাপ

মুখ বন্ধ পাত্রটি ৭দিন মাটি চাপা দিয়ে রাখতে হবে।

৪র্থ ধাপ

৭দিন পর মাটি চাপা থেকে বের করে পাতাগুলো ১০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

 

উপকারিতা

বাজারের কীটনাশক শরীরে নানা রকম রোগের জন্ম দেয় কিন্তু এই বিষের কোন ক্ষতিকর দিক নেই।

 

 

 

 

***

 

নিমপাতা দিয়ে গোলাঘরের পোকামাকড় দমন

 


 

ফসল উৎপাদনের পর পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য কৃষকরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে  গোলাঘরে ফসল সংরক্ষণ করেন। নিমপাতা একটি উপকারি ভেষজ গাছ। খুব সহজে এবং অল্প খরচে  নিমপাতা ব্যবহারের মাধ্যমে গোলাঘরকে ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়।

 

neem pata golaghar1.jpg
 

ছবি: নিমপাতা

 

 

 

 

পোকামাকড় দমন করার কৌশল 

কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করার মাধ্যমে নিমপাতা দিয়ে গোলাঘরের পোকামাকড় দমন করা যায়-

১ম ধাপ 

প্রথমে গোলাঘরের যে স্থানে ফসল রাখা হবে সেখানে পাতাসহ নিম গাছের ছোট ছোট ডাল সাজিয়ে দিতে হবে।

২য় ধাপ 

এরপর একপ্রস্থ বা এক স্তর ফসল রেখে তার উপর আবার পাতাসহ নিমের ছোট ছোট ডাল সাজিয়ে রাখতে হবে।

৩য় ধাপ 

তার উপর আবার  ফসলের মোটা স্তর সাজাতে হবে।

 

neem pata golaghar2.jpgneem pata golaghar3.jpgneem pata golaghar4.jpg

ছবি: গোলাঘরের বেড়ায় নিম পাতা

ছবি: ফসলের উপর নিম পাতা

ছবি: এক স্তর ফসল রাখার পর পুনরায় নিম পাতা দেয়া

 

 

৪র্থ ধাপ 

এক স্তর ফসল এবং তার উপর নিমপাতা ছড়িয়ে কয়েক প্রস্থ ফসল সংরক্ষণ করা সম্ভব।

৫ম ধাপ 

গোলাঘরের বেড়ার চারদিকে নিমের ছোট ছোট ডাল পু্ঁতে দিতে হবে।

 

প্রাপ্তি স্থান  

সাধারণত গ্রামের বাড়ীর আশেপাশে এবং রাস্তাঘাটে নিম গাছ থাকে। তাই খুব সহজেই নিম গাছের পাতার সাহায্যে গোলাঘরের পোকামাকড় দমন করা সম্ভব।

 

উপকারিতা  

নিমপাতা খুব সহজেই পাওয়া যায়। এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে সময় ও খরচ কম লাগে। এভাবে প্রচলিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গোলাঘরকে ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পায়।

তথ্য সংগ্রহে: অসীম ঘোষ, পরিচালক:  আমুচিয়া ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র, মোবাইল: 01815-535103

 

 


Share with :

Facebook Twitter